ajkervabna.com
শুক্রবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অভিযোগের শেষ নেই শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বিন্দু জাকিরের বিরুদ্ধে 

অনলাইন ডেস্ক | ০৩ জানুয়ারি ২০২১ | ৫:২০ অপরাহ্ণ | 283 বার

অভিযোগের শেষ নেই শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বিন্দু জাকিরের বিরুদ্ধে 

রাজধানীর মিরপুর শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকির হোসেনের (বিন্দু জাকির) বিরুদ্ধে ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখল, আবাসিক হোটেল, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদাবাজি ও দখল বানিজ্যেসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে।

কে এই বিন্দু জাকির?
বাবা ছিলেন শাহ্আলী মাজারের সিকিউরিটি গার্ড। জাকিরের কর্ম শুরু হয় টেম্পুর হেলপার হিসাবে। এরপর জাকির মিরপুর কাঁচা বাজারের একজন কাঁচা মরিচ বিক্রেতা হিসাবে ব্যবসায়িক খাতায় নাম লেখায়। বিন্দু মরিচ বিক্রি করার আদলে নাম হয় “ বিন্দু জাকির “ । এই আয়েই চলত তাদের কষ্টের সংসার। মিরপুরে ভাড়া করা বাসায় জাকিরের বেড়ে ওঠা। দুষ্টু চৌকস স্বভাবের হওয়ায় মিরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে যাতায়াত শুরু করেন। এরপরই রাজনৈতিক নেতৃদ্বয়ের চোখের উপর বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্রের শর্ত গোপন রেখে “ দুই সন্তানের “ জনক দুই বধুর এক স্বামী এই “ বিন্দু জাকির “ বয়স না থাকা সত্বেও ছাত্র না হয়েও হয়েছেন শাহ্আলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। খুলে যায় ভাগ্যের চাকা , হাতে পায় আলাউদ্দিনের চেরাগ। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। শুরু হয় শাহ্আলী থানার রামরাজত্ব কায়েম। গড়ে তোলেন “ বিন্দু জাকির “ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে মিরপুর -১ নম্বরের কলেজ মার্কেট , কাঁচা বাজার , মেইন সড়ক , ফল পট্রি , মুক্তিযাদ্ধা মার্কেটের চারপাশের ফুটপাত দখল করে অবৈধ ভাবে দোকানপাট বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে।

‘বিন্দু জাকিরের’ বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধানে গেলে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংঠনের একাধিক নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী জানায় , “বিন্দু জাকির“ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি হওয়ার পরও চড়তেন মোটরসাইকেলে, কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে এখন চড়েন “ VEZEL “ ব্রান্ডের নিউ মডেলের কালো রংয়ের ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-৮৮৬৫ নম্বরের একটা দামী গাড়ীতে। শুধু তাই নয় , মিরপুর টু গুলিস্থান রোডে তানজিল কোম্পানীর ব্যানারে রয়েছে তার ৪ টা বাস। সভাপতি হওয়ার পর থেকে ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনীতিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে হয়ে উঠেছেন শাহ্আলী থানার অপরাধ সম্রাজ্যের মুকুট বিহীন সম্রাট। দখল বানিজ্য ছাড়াও জমি ক্রয়-বিক্রয়, ফ্লাট/বাড়ী ক্রয়-বিক্রয় , ঘর-বাড়ী ,রাস্তা-ঘাট নির্মানসহ সর্বক্ষেত্রে “ বিন্দু জাকির “ কে চাঁদা দিতে হয়। শুধু তাই নয় মাদক ব্যবসাও রয়েছে তার নিয়ন্ত্রনে। এলাকবাসী তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অবৈধ উপার্জনে গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।

নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সাথে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিন্দু জাকির’ যে ভাবে আমাদের সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে , এহেন পরিস্তিতিতে আমাদের মাটি ও গনমানুষের নেতা মাননীয় সাংসদের তথা আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে আগামী নির্বাচনে এলাকায় ভোট কমবে ছাড়া বাড়বে না।

আরো জানা যায়, “ বিন্দু জাকিরের “ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কোটি টাকা দামের নামে-বেনামে কয়েকটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ী রয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন “ বিন্দু জাকির “।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরা আরে বলেন, “ বিন্দু জাকির “ কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্রের নিয়মবহির্ভূত অবৈধ ভাবে থাকা সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করে “ বিন্দু জাকির “ কে আইনের আওতায় এনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র নিজ হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকার সর্বস্তরের জনগন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

 

সম্প্রতি “ বিন্দু জাকিরের “ সন্ত্রাস বাহিনী কর্তৃক মারধর ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলার সানাউল্লাহ সানী নামের মিরপুরের এক ব্যবসায়ী।

এলাকাবাসী জানায় , সানাউল্লাহ ও কামালের নামের দুই ব্যবসায়ী মধ্যে দেনা-পাওনা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬.০০ সময় শাহ্আলী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো: সেন্টু মিয়া এবং মো:বিপুল পাটোয়ারী কে নিয়ে উভয় পক্ষ দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ ইসলাম সাহেবের অফিসে সুষ্ঠ সমাধানের জন্য আসেন। কামালের পক্ষে শাহ্আলী থানা ছাত্রলীগ সভাপতি “ বিন্দু জাকির “ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সানাউল্লাহর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে চাঁদা দাবী করেন এবং গোপালগঞ্জ জেলা নিয়ে কটুক্তি করেন । এমন কি চাঁদার টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে সানাউল্লাহ দারুসসালাম থানায় “ বিন্দু জাকিরের “ বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে একটা সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং ১৫৮৪ , তাং-৩০-১২-২০২০ ইং )। এছাডাও তিনি শাহ্আলী থানা ছাত্রলীগ সভাপতি কর্তৃক মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এর বরাবরে আবেদন করেন।

এ বিষয়ে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: তোফায়েল আহমেদ সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৫:২০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২১

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
advertisement

এডিটর ইন চিফ : অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ

নির্বাহী সম্পাদক : অ্যাডভোকেট শেখ সাইফুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক : ড. মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
বাড়ি# ১৬৭, রোড# ০৩, লেভেল ৫, মহাখালি ডিওএইচএস, ঢাকা।
ajkervabna.com@gmail.com or info@ssa-bd.com, +880 16 8881 6691

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।