ajkervabna.com
সোমবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ইসি বিতর্কে আবারও আলোচনায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী

অনলাইন ডেস্ক | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ | 146 বার

ইসি বিতর্কে আবারও আলোচনায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে দেয়া দেশের বিশিষ্ট ৪২ নাগরিকের চিঠির বিতর্কে আবারও আলোচনায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী। বিশিষ্ট এই ৪২ নাগরিক তাদের চিঠিতে ইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।

আর নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কমিশনের বিরুদ্ধে কিভাবে নেওয়া যাবে সে ব্যাপারেও মতামত দেন ৪২ নাগরিকের মধ্যে অন্যতম সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ৪২ নাগরিকের দেয়া চিঠি প্রসঙ্গে নিজেদের বক্তব্য জানানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ বিচারিক পরিষদ বা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও মতামত দেন এই আইনজীবী।

তারা বলছেন, আপিল বিভাগ থেকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম জুডিশাল কাউন্সিল গঠনে কোনো বাঁধা নেই।

তবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় সুপ্রিম কাউন্সিল গঠনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

এসময় তিনি জানান, আপিল বিভাগ থেকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণার রায়েই মামলাটি চূড়ান্তভাবে শেষ বলা যাবে না। পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) মত বিচারিক ধাপ বাকি রয়েছে এবং সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানির উদ্যোগও নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ এমনটাও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশের ৪২ নাগরিকের চিঠি ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের প্রসঙ্গে সোমবার (২১ ডিসেম্বর) নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া মতামতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এই দাবি করেন।

এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে (নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা) কী আছে? সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে যেভাবে অপসারণ করা যাবে, নির্বাচন কমিশনারদেরও সেভাবে করা যাবে। এখন তো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নেই। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে অন্য ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল।’

এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘হাইকোর্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দিল। আপিল বিভাগ তা বহাল রাখলেন। এর বিরুদ্ধে রিভিউ করা হয়েছে। এখন রিভিউ বিচারাধীন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনে এখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নেই। কিন্তু কিভাবে ওনারা (৪২ নাগরিক) সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি করেন, তা ওনারা জানেন। কোর্ট খোলার (অবকাশ শেষে ৩ জানুয়ারি আদালত খুলছে) পরই রিভিউ শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে। মামলার (রিভিউ) শুনানি শেষ হলে সিদ্ধান্ত হবে কোন প্রক্রিয়ায় বিচারপতিসহ নির্বাচন কমিশনের মত সাংবিধানিক পদে অপসারণ করা যাবে। রিভিউ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত নয়।

সিদ্ধান্তটি মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলে তা সাংবিধানিক শূন্যতা নয় বলেও জানান অ্যার্টনি জেনারেল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বর্তমান সরকারের আমলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আনা হয় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী।

২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় দেন। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ আবেদন করে।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
advertisement

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।