ajkervabna.com
সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কে হতে যাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি?

অনলাইন ডেস্ক | ১২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ | 129 বার

কে হতে যাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি?

সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। গুজবের পর আলোচনা শুরু হয় যদি তিনি খুব বেশি অসুস্থ কিংবা মারা যান তবে কে হবেন পরের সর্বোচ্চ নেতা?

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ক্ষমতাশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ ইরান। দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে আছেন ৮১ বছর বয়স্ক আলি খামেনি। কাজেই তার উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন এ বিষয়টি অতিগুরুত্বপূর্ণ তো বটেই গোটা এলাকা ও বাকি বিশ্বের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি।

দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? এ পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ।

এই মন্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর পর পর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামের আরেকটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।

অর্থাৎ এ দু’টি পরিষদ বা মণ্ডলীর ওপর সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব থাকে। গত তিন দশক ধরে আলি খামেনি নিশ্চিত করেছেন যে, বিশেষজ্ঞমণ্ডলীর নির্বাচিত সদস্যরা যেন রক্ষণশীল হয়। যারা তার উত্তরসূরি নির্বাচনের সময় তারই নির্দেশ মেনে চলবে। তবে নির্বাচিত হবার পর সর্বোচ্চ নেতা তার পদে আজীবন বহাল থাকতে পারেন।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে হবে একজন আয়াতুল্লাহকে, অর্থাৎ যিনি একজন শীর্ষস্থানীয় শিয়া নেতা। কিন্তু আলি খামেনিকে যখন নির্বাচন করা হয়েছিল তখন তিনি আয়াতুল্লাহ ছিলেন না। পরে তিনি যাতে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন তার জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়েছিল। কাজেই প্রয়োজনে আইন আবার পরিবর্তন করা সম্ভব। যখন নতুন নেতা নির্বাচনের সময় আসবে তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে আইন পরিবর্তনের রাস্তা খোলা রয়েছে।

কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?

ইরানে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদাধিকারী ব্যক্তি। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তার নির্দেশই শেষ কথা। দেশটির নীতিমালার রূপকার তিনি বহির্বিশ্বের সাথে ইরানের সম্পর্কের মূল নির্দেশকও তিনি।

ইরান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া মতাবলম্বী দেশ এবং আলি খামেনির নেতৃত্বে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আলি খামেনির মৃত্যু গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, গোটা বিশ্বে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

কে হতে পারেন পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?
ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির রাজনৈতিক উপ-দলগুলো পরবর্তী উত্তরসূরি কেমন হবেন তা নিয়ে গভীরভাবে আগ্রহী। কিন্তু ইরানে এমন কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি নেই যিনি একটা সঙ্কট প্রতিরোধ করার জন্য নেতৃত্ব দিতে পারেন।

তবে আলি খামেনির অনুগত মহলে তার একটা বড় প্রভাব রয়েছে। এদের বেশিরভাগই ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্য।

রেভল্যুশনারি গার্ড যদি কোনো প্রার্থীকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেখতে না চায় বা তারা যদি কোনো প্রার্থীকে অপছন্দ করে তাহলে তাকে ঠেকানোর চেষ্টা যে তারা করবে সে সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এমনও গুজব রয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে যা চূড়ান্তভাবে গোপনীয়। ওই তালিকায় কাদের নাম আছে তা জানার দাবিও কেউ করেন না। পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বা বিভিন্ন ঘটনার নিরীক্ষা করে বলা হচ্ছে, আলি খামেনির পছন্দের উত্তরসূরি হতে পারেন তার ছেলে মোজতাবা অথবা বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রাইসি। সেটা যদি সঠিক হয় তাহলে তার কিছুটা ওজন অবশ্যই রয়েছে।

ইব্রাহিম রাইসির পূর্বসূরি সাদেক লারিজানি ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দু’জনেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণে আগ্রহী বলে ধারণা করা হয়।

এ দিকে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ৫১ বছর বয়স্ক ছেলে মোজতাবা সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়েছে। ধর্মীয় শহর মাশহাদে তার জন্ম ও বাবার মতো তিনিও একজন ধর্মীয় নেতা।

আলি খামেনি কোনো বাদশাহ নন। কাজেই উত্তরসূরি হিসেবে সন্তানের হাতে সিংহাসন তুলে নেবার কোনো প্রথা এখানে কাজ করবে না। কিন্তু তার বাবার কট্টরপন্থী ঘনিষ্ঠ মহলে মোজতাবার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এমনকি দফতরেও তার ব্যাপক প্রতিপত্তি রয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ড যদি তাকে সমর্থন করে তাহলে বৈধ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে মোজতাবার অনুকূলে কাজ করানোর ব্যাপারটা তারা প্রভাবিত করতে পারে।

ইব্রাহিম রাইসি কে?
ষাট বছর বয়স্ক এই ধর্মীয় নেতার জন্মও মাশহাদে। আয়াতুল্লাহ খামেনির স্থলাভিষিক্ত হবার জন্য সবেচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী তিনিই হবেন বলে ধারণা করা হয়।

তিনি যে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে আগ্রহী এমন আলোচনা বা গুজব তিনি কখনো নাকচ করেননি। তার বহু কার্যকলাপ ও পদক্ষেপ থেকে মনে হয় তাকে এই পদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। বিচার বিভাগে তিনি বেশ কিছু পদে কাজ করেছেন ও তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিশেষজ্ঞমণ্ডলীতে উপ-সভাপতি।

২০১৭ সালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি তাকে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন।

এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংবাদ মাধ্যমে তাকে প্রায়ই কথা বলতে দেখা যায়। তিনি ‘দুর্নীতি বিরুদ্ধে লড়াই’ শুরু করেছেন।

আলি খামেনির মতে, ইব্রাহিম রাইসিও ইরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির বিরুদ্ধে ও রেভল্যুশনারি গার্ডের তিনি খুবই ঘনিষ্ঠ।
সূত্র : বিবিসি

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
advertisement

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।