ajkervabna.com
রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তিতাসের হাজার হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক | ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ | 63 বার

গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তিতাসের হাজার হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি

রাজধানীতে গত প্রায় এক দশক ধরে গ্যাস সঙ্কটের কারণে আবাসিক ও বাণিজ্যিকে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে। তবে সাময়িকভাবে সংযোগ প্রদানের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও জ্বালানি বিভাগ ২০১৬ সাল থেকে পুরোপুরিভাবে তা বন্ধ করে দেয়। গ্যাস বিতরণকারী সব প্রতিষ্ঠানের জন্যই ওই নিষেধাজ্ঞার বহাল থাকা মধ্যেই গত এক বছরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (টিজিটিডিসিএল) গ্রাহক বেড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক গ্রাহক বেড়েছে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি। বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছর তিতাসের আবাসিকের গ্যাসের গ্রাহক ছিল ২৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৯ জন। তবে ২০১৯-২০ সালে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। গত এক বছরে নতুন আবাসিকের গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৮৮৩ জন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০০৯ সালে আবাসিক গ্যাস গ্রাহকদের আঙিনায় নতুন সংযোগ বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। ওই বছরের ২১ এপ্রিল থেকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে বন্ধ করা হয় নতুন গ্যাস সংযোগ। তবে বিগত ২০১৩ সালের ৭ মে সীমিত পরিসরে আবারো আবাসিকে সংযোগ দেয়া শুরু হলেও কিছুদিন পরই তা আবারো বন্ধ রাখা হয়। তবে ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় মৌখিকভাবে আবাসিকে নতুন করে সংযোগ দেয়ার বিষয়টি জানায়। কিন্তু তীব্র গ্যাস সঙ্কট এবং অর্থের বিনিময়ে সংযোগ দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিগত ২০১৬ সাল থেকে সব গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং সিএনজিকে নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করতে বলে জ্বালানি বিভাগ। কারপর থেকে বেশির ভাগ কোম্পানি গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখলেও তিতাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ সংযোগ দেয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা া এ সময়ে তিতাসের বাণিজ্যিক গ্রাহকের সংখ্য বাড়েনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছর তিতাসের বাণিজ্যিক গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৭৫। পরের অর্থবছরও এ সংখ্যা অপরিবর্তিতই ছিল। তবে বিতরণকারী কোম্পানিটির দাবি, পুরনো সংযোগগুলো নবায়ন করায় গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে, যেগুলো আগে তালিকায় ছিল না। নতুন করে কোনো সংযোগ দেয়া হয়নি। যদিও অবৈধ সংযোগকে তালিকায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা সংশ্লিষ্টরা এমন প্রশ্ন তুলেছেন।
সূত্র জানায়, বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছর তিতাসের গ্রাহক ছিল ২০ লাখ। ২০১৬-১৭ অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ লাখ। এক বছরেই ৭ লাখ নতুন গ্রাহক গ্যাস সংযোগ পায়। পরে তিতাসের এক বোর্ড সভায় নতুন করে ৭ লাখ গ্রাহককে বৈধ করা হয়। তাছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছর নতুন করে আরো ৪৬ হাজার গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস বিতরণ করছে তিতাস। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এ কোম্পানিটির গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ২৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪৮। তার মধ্যে আবাসিকে গ্রাহক রয়েছে ২৮ লাখ ৫৫ হাজার ৩০২। আবাসিকের বাইরে সংস্থাটি ৪৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে, ৩টি সার কারখানা, শিল্পে ৫ হাজার ৩১৩টি, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১ হাজার ৭০১টি, সিএনজি ৩৯৬ ও বাণিজ্যিকে ১২ হাজার ৭৫টি সংযোগ রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বাড়ার চিত্র দেখা গেলেও গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং বিল বকেয়ার কারণে কোম্পানিটি ৩ হাজার ৯১১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। তার মধ্যে গ্যাস বিল বকেয়ার কারণে ২ হাজার ৫২৭টি ও অবৈধ সংযোগের কারণে ৯৮৬টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আবাসিকের বাইরে শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৯১১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এদিকে গ্যাসের আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ জানান, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ। গ্রাহক বাড়ার প্রশ্নই আসে না। তবে এ ধরনের যদি কোনো কিছু হয়ে থাকে, তাহলে তথ্যের ভুলভ্রান্তিজনিত কারণে হতে পারে। বরং তিতাস প্রতিনিয়ত আবাসিকের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে। তবে এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার পরও তিতাসের গ্রাহক বৃদ্ধি বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান জানান, এগুলো আগেরই সংযোগ। নতুন কোনো সংযোগ নয়। ম্যানুয়ালি গ্যাসের বিল করার কারণে কম্পিউটারে ইনপুট দেয়া হয়নি। যে কারণে প্রতিবেদনে এমন চিত্র দেখা গেছে। নতুন করে গ্যাসের সংযোগ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং এলপিজি ব্যবহার করার জন্য সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগামীতে আবাসিকে এলপিজি গ্রাহক যাতে বাড়ে সে বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৫:০৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
advertisement

এডিটর ইন চিফ : অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ

নির্বাহী সম্পাদক : অ্যাডভোকেট শেখ সাইফুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক : ড. মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
বাড়ি# ১৬৭, রোড# ০৩, লেভেল ৫, মহাখালি ডিওএইচএস, ঢাকা।
ajkervabna.com@gmail.com or info@ssa-bd.com, +880 16 8881 6691

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।