ajkervabna.com
বৃহস্পতিবার ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নবীজির প্রিয় তিন আমল

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ১২:৩৭ অপরাহ্ণ | 145 বার

নবীজির প্রিয় তিন আমল

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি অসিয়ত করেছেন—এক. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুই. দুই রাকাত চাশতের নামাজ পড়া, তিন. ঘুমের আগে বিতরের নামাজ পড়া।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৭৮)

 

আলোচ্য হাদিসে মহানবী (সা.) তিনটি বিশেষ আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। যা থেকে নফল রোজা ও নামাজের গুরুত্ব বুঝে আসে। হাদিসবিশারদরা বলেন, যদিও এ হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.)-কে সম্বোধন করা হয়েছে, তবু তা উম্মতের প্রতিটি ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। সবার উচিত আমল তিনটির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

প্রিয় তিন আমলের তাৎপর্য

আলোচ্য হাদিসে মহানবী (সা.) যে তিনটি আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন তার তাৎপর্য সম্পর্কে হাদিসবিশারদরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁদের আলোচনার সারকথা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

প্রতি মাসে তিন দিন রোজা

রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে বলেছেন। অন্য হাদিসে এসেছে, তিনি প্রতি মাসের মধ্যবর্তী তিন দিন রোজা রাখতেন। ইসলামী ফিকহের পরিভাষায় যাকে ‘আইয়ামে বিদ’-এর রোজা বলা হয়। বহু সাহাবি ও আগেকার বুজুর্গরা গুরুত্বের সঙ্গে এ তিন দিন রোজা রাখতেন। এ রোজার তাৎপর্য হলো, হাদিসে এসেছে, আল্লাহ ভালো কাজের প্রতিদান কমপক্ষে ১০ গুণ বৃদ্ধি করেন। সুতরাং কেউ তিন দিন রোজা রাখলে সে পুরো মাস তথা ৩০ দিন রোজা রাখার সমান সওয়াব লাভ করবে।

চাশতের নামাজ

আরো একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা চাশতের নামাজের মর্যাদা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি গ্রন্থির বিপরীতে সদকা (দান) করা আবশ্যক। প্রতিটি তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) সদকা, প্রতিটি তাহমিদ (আল হামদুলিল্লাহ) সদকা, প্রতিটি তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) প্রতিটি তাকবির (আল্লাহু আকবার) সদকা, সৎ কাজের আদেশ সদকা ও অসৎ কাজে নিষেধ সদকা। আর এসব চাশতের দুই রাকাত নামাজ পড়লেই আদায় হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭২০)

ফকিহরা বলেন, চাশতের নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত ও সর্বোচ্চ আট রাকাত। এ নামাজের তাৎপর্য হলো, ব্যক্তি যেন দিনের শুরুতে মহান আল্লাহর দরবারে নফল নামাজের মাধ্যমে সাহায্য ও নৈকট্য প্রার্থনা করতে পারে। এ ছাড়া চাশতের নামাজ আল্লাহর দরবার সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় দিন শুরু করতে পারার কৃতজ্ঞতা আদায়। যেমনটি সহিহ মুসলিমের হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ঘুমের আগে বিতর নামাজ আদায়

বিতর নামাজ ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা আদায় করতে উৎসাহিত করেছেন এবং তিনি নিজে মুকিম ও মুসাফির অবস্থায় সর্বাবস্থায় আদায় করেছেন। এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত বিতর নামাজ আদায় করা যায়। উত্তম হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের পর তা আদায় করা। আলোচ্য হাদিসে ঘুমের আগে বিতরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ তাদের জন্য যাদের শেষ রাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে না পারার ভয় আছে।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
advertisement

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।