ajkervabna.com
রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা: ৮৩ বছরেও বিয়ে করেননি লেডু মিয়া

অনলাইন ডেস্ক | ০৮ নভেম্বর ২০২০ | ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ | 20 বার

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা: ৮৩ বছরেও বিয়ে করেননি লেডু মিয়া

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার খবর শুনে বিয়ের আসর থেকে উঠে ঢাকায় চলে যান আব্দুল আজিজ ওরফে লেডু মিয়া। জীবনের ৮৩ বছর পার করলেও আজ পর্যন্ত বিয়ে করেননি বঙ্গবন্ধুপাগল লেডু মিয়া।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউপির ধারাকান্দি গ্রামের তাহির উদ্দিনের ছেলে লেডু মিয়া। ১৯৬৯ সালে যখন বঙ্গবন্ধু নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেন তখন থেকে তিনি নৌকার ভক্ত। ভাষাসৈনিক মরহুম এম শামসুল হকের হাত ধরে তার রাজনীতির শুরু।

লেডু মিয়া বলেন, ময়মনসিংহে একবার বঙ্গবন্ধুকে সামনে থেকে দেখেছি। রাজনীতি করেছি, মিছিল-মিটিং করেছি কিছু পাওয়ার জন্য নয়। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে এসব করেছি।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আব্দুল আজিজ লেডুর বিয়ের দিন ছিল। ওই দিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার খবরে বিয়ের আসর থেকে উঠে ঢাকায় চলে যান লেডু। তারপর আর বিয়ে করেননি তিনি। পুরো জীবন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ বলে কাটিয়ে দিলেন লেডু।

প্রতিবেশী মকবুল হোসেন বলেন, ছোট থেকেই দেখছি আওয়ামী লীগ আর বঙ্গবন্ধু ছাড়া কিছুই বোঝেন না লেডু। আওয়ামী লীগের এমন একজন কর্মী হয়েও তাকে অন্যের দোকানের ফ্লোরে থাকতে হয়। তার থাকার ঘর দরকার।

আমজাদ হোসেন তালুকদার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, লেডুর বিয়ের দিন তাকে গোসল করানো হচ্ছিল। তখন হঠাৎ খবর পেলাম বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। খবর শুনেই লেডু উঠে ঢাকায় চলে যায়। বাড়ি ফিরে ১৫-১৬ দিন পর। তারপর আর বিয়ে করেনি লেডু।

বঙ্গবন্ধু যখন ১৯৬৯ সালে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেন তখন লেডুকে নিয়ে নৌকার মিছিল করেছি। নৌকা নৌকা স্লোগান দিয়েছি। সেই থেকেই আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু ছাড়া কিছুই বুঝি না।

লেডু মিয়ার ছোট ভাই আব্দুল খালেক বলেন, ভাইকে বিয়ে করানোর চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। কল্পনা আক্তার নামে আমার এক মেয়ে ছিল। কল্পনার মা মারা যাওয়ার পর লেডু মিয়া তাকে লালন পালন করে বিয়ে দেন। ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে প্রায়ই থাকেন লেডু। সেখানে যদি না যান তাহলে তারাকান্দা বাজারে শাহিন প্রেস নামে একটা দোকান আছে; সেখানে রাতে ঘুমান। তার থাকার কোনো জায়গা নেই।

তারাকান্দার ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, লেডুর বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শিগগির তার বাড়ি যাব। খুব তাড়াতাড়ি তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।

তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রদীপ কুমার সরকার ওরফে রনু ঠাকুর বলেন, লেডু আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। যেখানে আওয়ামী লীগের সভা-সেমিনার সেখানেই হাজির লেডু। এক কথায় নৌকাপাগল লোক তিনি। লেডু চিরকুমার। মূলত বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর শুনে বিয়ে করেননি লেডু।

প্রদীপ কুমার বলেন, লেডুর থাকার থাকার ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় নেতাদের কাছে গেলে তাকে কেউ খালি হাতে ফেরায় না। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ খুব ভালো করেই লেডুকে চেনেন এবং স্নেহ করেন। তার কাছে সবসময় লেডু যান। ঘরের কথা বললেই কাজ হয়ে যাবে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
advertisement

এডিটর ইন চিফ : অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ

নির্বাহী সম্পাদক : অ্যাডভোকেট শেখ সাইফুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক : ড. মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
বাড়ি# ১৬৭, রোড# ০৩, লেভেল ৫, মহাখালি ডিওএইচএস, ঢাকা।
ajkervabna.com@gmail.com or info@ssa-bd.com, +880 16 8881 6691

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।