ajkervabna.com
শুক্রবার ৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বরিশালে মাতৃসদনে সন্তানসহ প্রসুতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

অনলাইন ডেস্ক | ১০ নভেম্বর ২০২০ | ২:৪১ পূর্বাহ্ণ | 48 বার

বরিশালে মাতৃসদনে সন্তানসহ প্রসুতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাগধা এলাকায় সরকারী অনুমোদনহীন ‘রেড ক্রিসেন্ট মাতৃ সদন’ নামের একটি ক্লিনিকে প্রসূতি নারীর ডেলিভারি করাতে গিয়ে আয়াদের কারণে গর্ভের সন্তানসহ প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্লিনিকটি সিলগালা করে অভিযুক্ত দুই আয়াকে আটক করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ চাঁদত্রিশিরা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মন্টু বাহাদুরের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী সীমা বেগমের (৩৫) চতুর্থ সন্তানের প্রসব বেদনা শুরু হলে সোমবার সকালে তাকে ওই ক্লিনিকে নেয়া হয়। সরকারী অনুমোদন বিহীন ওই ক্লিনিকে কোন রেজিষ্ট্রার চিকিৎসক না থাকার পরেও কর্মরত আয়া রাশিদা বেগম ও মায়া বেগম প্রসূতির বাচ্চা প্রসব করানোর চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে নয়টার দিতে গর্ভের সন্তানসহ সীমার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সীমার স্বজনদের কাছে গোপন রেখে তাকে (সীমা) অন্যত্র নিয়ে ডেলিভারী করার কথা বলে ওই আয়ারা দ্রুত সটকে পরেন।

সীমার ভ্যানচালক স্বামী মন্টু ক্লিনিকের আয়াদের কথানুযায়ি দ্রুত সীমাকে পয়সারহাট আদর্শ জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখানের চিকিৎসকেরা সীমাকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। সীমার অসহায় স্বামী তাকে নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে নিলে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মামুন মোল্লা সীমাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রব হাওলাদার ও থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মোঃ গোলাম ছরোয়ার হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ময়নাতদন্তের জন্য নিহত সীমার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ওসি ঘটনাস্থল বাগধা গ্রামের নামসর্বস্ব ওই ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে অভিযুক্ত দুই আয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন জানান, উপজেলায় যতগুলো বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে তার তালিকায় ‘রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন’ ক্লিনিকের নাম নেই। সরকারী কোন অনুমোদন ছাড়া কিভাবে তারা রোগি ভর্তি ও চিকিৎসা প্রদান করেন তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ওই ক্লিনিকের কাগজপত্রসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য পুলিশসহ স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদারকে পাঠানো হয়েছে। তার রির্পোটের পর কাগজপত্রবিহীন কথিত ওই ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।

থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম ছরোয়ার বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত দুই আয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধু সীমার স্বামী মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিচ্ছেন।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ২:৪১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
advertisement

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।