ajkervabna.com
শনিবার ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাসে অগ্নিসংযোগের ফোনালাপ সংসদে শোনালেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | ১৭ নভেম্বর ২০২০ | ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | 46 বার

বাসে অগ্নিসংযোগের ফোনালাপ সংসদে শোনালেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির বিরুদ্ধে বাসে অগ্নিসংযোগের তথ্য-প্রমাণ সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অগ্নিসংযোগের পর একটি অডিও রেকর্ড সংসদে শুনিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আছি। আমরা নিজেরাই আগুন দিয়ে আমাদের সরকারকে দুর্নামের ভাগীদার করব কেন?’

গতকাল সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ রাজধানীতে সম্প্রতি ১১টি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের অন্য মন্ত্রীদের আনা অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি এ বিষয়ে একটি সংসদীয় কমিটি গঠনেরও দাবি জানান।

এর জবাব দিতে সংসদে ফ্লোর নেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশন মুলতবি ঘোষণার আগমুহৃর্তে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমি উঠতে চাইনি। কিন্তু মাননীয় সংসদ সদস্য যেভাবে কথাগুলো বললেন, তা ঠিক নয়। আমার কাছে একটা রেকর্ড আছে, আমি তা এই সংসদে শোনাতে চাই। টেকনোলজি অনেক এগিয়ে গেছে। এখন মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদে বিএনপির এক নেতা ও এক নেত্রীর গাড়ি পোড়ানো সংক্রান্ত ফোনালাপের রেকর্ড পুরোটাই বাজিয়ে শোনান।

বিএনপিদলীয় এমপি হারুনুর রশীদকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এমপিকে আমরা সংসদের সামনের সিটে বসিয়েছি কথা বলার জন্য। কিন্তু উনি বিভিন্ন সময় এমন সব কথা তোলেন, সব সময় আমরা উত্তরও দিই না। আজকে তিনি যে কথাগুলো বললেন, এ সম্পর্কে তাঁর দলের তথ্য নিয়ে কথা বলা উচিত ছিল। উনি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে—আদৌ তাঁরা নির্বাচন করেন কি না? নির্বাচনে তাঁরা অংশ নেন, মনোনয়ন নিচ্ছেন আর যাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনের দিনে কোনো এজেন্ট দেবেন না। একটা সময় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বলেন, নির্বাচন ঠিক হচ্ছে না। আসলে জনগণের সমর্থন হারিয়েছে তারা অনেক আগেই। ২০০১ সালে চক্রান্ত করে ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাস, মানুষ খুন করা, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে সব ধরনের নির্যাতন করেছে বিএনপি। অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ পোড়ানোই তাদের আন্দোলন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো টেকনোলজির দিন। সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা আছে। হাতেনাতে ধরা পড়ে যাচ্ছে। কারা কারা সত্যিকারে আগুন দিচ্ছে—এগুলো একদম পরিষ্কার। কারণ আমার কাছে ছবি আছে। সংসদে ছবি দেখানোর সুযোগ থাকলে আমি ছবি দেখাতে পারতাম। কয়েকজন মিছিল থেকে বেরিয়েই বাসে আগুন দিচ্ছে—সেই ছবি আমার কাছে আছে। রাস্তার সিসি ক্যামেরা থেকে সেগুলো নেওয়া। সুতরাং আগুন দিয়ে সংসদে এসে সরকারের ওপর দোষারোপ করা—এটা তাদের অভ্যাস।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা নেতা বানিয়েছে কাকে? খুনের মামলার আসামি, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি, যে দেশ থেকে পলাতক—তাকে বানাল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দেশে কি এমন কোনো যোগ্য নেতা নেই, যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হতে পারেন? ফেরারি খুনের আসামি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাদের নেত্রী এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা সাজাপ্রাপ্ত। তবু তাঁকে বাসায় থাকতে দেওয়া হয়েছে।’

সংসদে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত না করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধেরও অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
advertisement

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।