ajkervabna.com
বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভাত খাওয়া অবস্থায় নিয়ে গেল পুলিশ, লিটন বিষ পেল কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক | ০৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ১১:১৮ অপরাহ্ণ | 127 বার

ভাত খাওয়া অবস্থায় নিয়ে গেল পুলিশ, লিটন বিষ পেল কোথায়?

পটুয়াখালীর দশমিনায় জমিসংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশ থানায় ডেকে নেওয়ার পর লিটন খান (৪০) নামে এক সিএনজিচালক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হলে কোতোয়ালি থানায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে দশমিনায় আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন দশমিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাম মোল্লা। রহস্যজনক এমন ঘটনায় পুলিশকে নিয়ে উপজেলায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আলাউদ্দিন খানের ছেলে মো. লিটন খানকে রোববার দশমিনা থানার এএসআই মামুন গ্রেফতার করেন। এর আধা ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

তবে নিহতের বাবা ও সন্তানদের অভিযোগ ভাত খাওয়া অবস্থায় গেঞ্জি গায়ে লিটনকে থানা পুলিশ নিয়ে গেলে লিটন বিষ পেল কোথায়? এ ঘটনায় খান পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ঢাকাতে সিএনজিচালক মো. লিটন খান গ্রামের বাড়ি এসে বাঁশবাড়িয়া রজ্জবিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি টিন ও কাঠের ঘর নির্মাণ করেন। ওই রাতেই মাদ্রাসার পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধন করা হয়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিহাব উদ্দিন শনিবার ওই মাদ্রাসার দায়িত্বরত সভাপতি ও ইউএনও বরাবর জমি দখল ও বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে লিটনকে সন্দেহজনক আসামি করা হয়। মাদ্রাসার সভাপতি ইউএনও তানিয়া ফেরদৌস বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দশমিনা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

পরে এএসআই মামুনকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ওসি। রোববার দুপুরে এএসআই মামুন সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে ভাতের টেবিল থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসেন বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে থানা অভ্যন্তরে লিটন বিষপান করলে দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। লিটনের অবস্থা বেগতিক দেখে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

লিটনের সঙ্গে থাকা মো. মফিজ মুহুরি জানান, রাত ১টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিটনের মৃত্যু হয়।

দশমিনা থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ এনে রজ্জবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. সিহাব উদ্দিন লিটন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। একই অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দিলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন।

তিনি বলেন, অভিযোগের সূত্র ধরে রোববার অভিযুক্ত লিটনকে এএসআই মামুনুর রশীদের মাধ্যমে থানায় নিয়ে আসি। লিটনকে থানায় আনা হলে তিনি প্রকৃতির ডাকের অজুহাতে বাথরুমে গিয়ে সঙ্গে থাকা কীটনাশক পান করেন। বাথরুম থেকে বেরিয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে আমরা প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে পটুয়াখালী এবং বরিশালে নিয়ে যাই। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

এ প্রসঙ্গে ওই মাদ্রাসার সুপার মো. সিহাব উদ্দিন বলেন, নিহত লিটন বেআইনিভাবে জমি দখল করে ঘর উঠানোর প্রস্তুতি এবং বিষ দিয়ে পুকুরের মাছ নিধনের চেষ্টা চালালে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। পুলিশ লিটনকে থানা নিয়ে গেলে তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

নিহতের স্ত্রী বলেন, চার বছর আগে নগদ টাকা দিয়ে ১১ কাঠা জমি কিনেছি। কিন্তু জমিদাতা জমি বুঝিয়ে দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেন। শুক্রবার রাতে বাড়ির লোক মফিজ খান পুকুরে বিষ দিয়ে আমাগো নামে অভিযোগ করছে। এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মাদ্রাসার সুপারও জড়িত আছে। শুক্রবার আমার স্বামী দুপুরের খাবার খেতে বসলে বাদীর সহযোগিতায় মামুন দারোগা ও পুলিশ তাকে থানা নিয়ে যান। এরপর থানায় কী হয়েছে আমি কিছুই জানি না।

নিহত লিটনের ভাই ইমরান ও শ্যালক সাদেক হোসেন বলেন, লাশ দশমিনা থানায় আছে। পুলিশ দ্রুত দাফন দিতে বলেন; কিন্তু আমরা আগে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বললে পুলিশ রাজি হচ্ছে না।

নিহতের বাবা মো. আলাউদ্দিন খান জানান, পুত্রবধূ মাশেদা ও তিন নাতি মামুন, রহমান এবং জাবেদকে নিয়ে দুপুরের ভাত খাওয়ার সময় পুলিশ আমার পোলারে (লিটন) ধরে নিয়ে যায়। তখন লিটন গেঞ্জি গায়ে ছিল- বিষ পাইলো কই?

নিহতের বড় ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র আল মামুন অভিযোগ করে জানায়, তার বাবার এ ঘটনার জন্য মাদ্রাসা সুপার সিহাব মাওলানা, মফিজ খাঁ ও জয়নাল খাঁ দায়ী। তাদের বিচারের দাবি জানায় সে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির বসতঘরের খাবার টেবিলে লিটনের মাখাভাত সেই অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

দশমিনা-গলাচিপা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. ফারুক জানান, ইউএনওর সুপারিশ কর্তৃক অভিযোগের ভিত্তিতে লিটনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। লিটন প্রস্রাবের কথা বলে থানার অভ্যন্তরের টয়লেটে বসে বিষ খেয়ে ডাক-চিৎকার দিলে তাকে টালমাটাল অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনা তাকে থানায় আনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটেছে।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:১৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
advertisement

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।