ajkervabna.com
রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে মহানবী (সা.)কে অবমাননা সমর্থনযোগ্য নয়

ডক্টর আবু জাফর সিদ্দিকী | ০৭ নভেম্বর ২০২০ | ২:২৯ অপরাহ্ণ | 94 বার

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে মহানবী (সা.)কে অবমাননা সমর্থনযোগ্য নয়

‘বাক স্বাধীনতার নামে ফ্রান্স ইসলামবিরোধী চরম অসত্য ও নোংরা খেলা শুরু করেছে। সরকারি বহুতল ভবনে পুলিশ পাহারায় বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেছে। বিকারগ্রস্ততা, মতলববাজি, অশুভ উদ্দেশ্যে কোন্দল সৃষ্টিকে ‘বাকস্বাধীনতা’ বলে চালানোর এই ভুতুড়ে প্রয়াস নিতান্তই হাস্যকর এবং রুশো ভল্টেয়ার, রেঁনে ডেকার্তের মতো মনীষীদের জন্মভূমির শীর্ষ সরকার প্রধানের মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীও কিছুদিন আগে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এসব উগ্র কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, তারা বাক স্বাধীনতার নামে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মুসলমানদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব সৃষ্টিকর্তার তরফে মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ। তিনি শুধু সমগ্র আরবকে ঐক্যবদ্ধই করেননি, মানবজাতির সামনে ন্যায় ও মানবতার অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলমানরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বে শান্তি, কল্যাণ ও জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে রাখছেন। ইসলামের এই মহানবী নবুয়তপ্রাপ্তির আগেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ‘আল-আমিন’ হিসেবে। তাঁর মধ্যে সম্মিলন ঘটেছিল সমুদয় মানবীয় সতগুণের: করুণা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, শান্তিবাদিতা। অসাধারণ চিন্তাশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। চিন্তাকে কাজে রূপ দিতে তাঁর সমগ্র জীবন হয়ে ওঠে বিপুল কর্মময়।

মানব-ইতিহাস ও বিশ্বকে এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর আবির্ভাবের আগের ও পরের ইতিহাস কোনোভাবেই আর এক থাকেনি। তিনি ছিলেন মুসলমানদের রাসুল; কিন্তু অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকেও তিনি ভালোবাসতেন সমানভাবে। সকল রকম বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর জীবনাচরণ ছিল অনন্য উদাহরণ। তাঁর সত্য ও ন্যায়ের আদর্শ ছিল সর্বমানবিক। আজকের পৃথিবীতে যে হিংসা-হানাহানি চলছে, তা থেকে পরিত্রাণে এই মহান ব্যক্তিত্বের দেখানো শান্তি ও সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও করুণার অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের শ্রেষ্ঠতম বন্ধু।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনো ধর্মনেতার অবমাননা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। রাসূল সা: এর কার্টুন প্রকাশ একটি গর্হিত অপরাধ। মহানবী সা:-এর কার্টুন প্রকাশ ও তা সমর্থন করা যেমন ধর্মবিদ্বেষকে উসকে দেয়ার মতো অপরাধ তেমনি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মানুষ হত্যাও গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে যিনি মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রচার করেছেন সেই মহানবী সা:-এর দীক্ষাই হোক আমাদের নির্দেশক। পবিত্র ইসলাম ও মহানবী সা:-এর অনুসারীদের আবেগকে আহত করে বিশ্বব্যাপী যে অনাকাক্সিক্ষত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তা গোটা মানবজাতির ঐক্য ও মিলনের জন্য এক কঠিন হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দেয়ার মতো মানবিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে উদ্যোগী হতে হবে। কারণ ঘৃণা ও সন্ত্রাস- কোনোটাই বিশ্ববাসীর কাম্য নয়।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। কখনো দুর্বল ব্যক্তিকে কটু কথার মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করতেন না। এমনকি কোনো মানুষকে তার সামর্থ্যের বাইরে অসাধ্য কাজে বা কঠিন দায়িত্বে বাধ্য করতেন না। তিনি দরিদ্র অসহায় মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন।
সমাজে যে যতটুকু মর্যাদার অধিকারী, তাকে সেভাবেই মূল্যায়ন করতেন। তিনি নম্রতাসুলভ আচরণ প্রদর্শন
করার জন্য সাহাবায়ে কিরামদের উপদেশ দিতেন, আচার-ব্যবহারে অযথা রাগ ও ক্রোধ থেকে সর্বদা বিরত থাকার পরামর্শ দিতেন। তিনি মানুষকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নম্র-বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চাসনে আসীন করেন আর যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে অপদস্থ করেন।’
মহানবী (সা.) এতই নমনীয় ও কোমলতর ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন যে তাঁর পবিত্র সংস্রব কিংবা সামান্যতম সুদৃষ্টির কারণেও অনুসারীরা তাঁকে প্রাণাধিক ভালোবাসত এবং মনে-প্রাণে গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করত। তাঁর কোমল ব্যবহার সম্পর্কে উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) কঠোর ভাষী ছিলেন না, এমনকি প্রয়োজনেও তিনি কঠোর ভাষা প্রয়োগ করতেন না। প্রতিশোধপ্রবণতা তাঁর মধ্যে আদৌ ছিল না।

মুহাম্মদ (সা.) হলেন মহান চরিত্রের অধিকারী ও আদর্শের জীবন্ত প্রতীক। জন্মের পর হতেই তার মাঝে বিরাজ করছিলো সর্বোত্তম চরিত্র মাধুরী, সর্বোত্তম আদর্শ, সর্বোত্তম মহৎ মানুষ ও সর্বোত্তম প্রতিবেশী ইত্যাকার মহত্তম গুণ। বাল্যকাল থেকেই তার স্বভাব ছিলো কলুষতা, কাঠিন্য, কর্কশতা ও অহমিকামুক্ত। অধিকন্তু পরনিন্দা, অশ্লীল ও অশিষ্ট বাক্য কখনই তার পবিত্র মুখ হতে নিঃসৃত হয়নি। বিশ্ববাসী সকলের নিমিত্ত নমুনা ও মহান আদর্শ। রাসূল (সা.)- এর আগমন যে গোটা মানবজাতির তথা সৃষ্টি জগতের জন্য কল্যাণবহ, এ কথাটি ভিন্ন মতের তাত্ত্বিক কিংবা মূল্যায়নকারীরা কোনো-না-কোনো পর্যায়ে বলতে বাধ্য হয়েছেন। এ এক অনিবার্য অর্জন, বিজয়।

লেখক: লেখক ও গবেষক, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চাইল্ড কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা-ঢাকা।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ২:২৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
advertisement

এডিটর ইন চিফ : অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ

নির্বাহী সম্পাদক : অ্যাডভোকেট শেখ সাইফুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক : ড. মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
বাড়ি# ১৬৭, রোড# ০৩, লেভেল ৫, মহাখালি ডিওএইচএস, ঢাকা।
ajkervabna.com@gmail.com or info@ssa-bd.com, +880 16 8881 6691

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।