ajkervabna.com
সোমবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক | ২৮ নভেম্বর ২০২০ | ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ | 17 বার

রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত

মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে লাখো পূর্ণার্থীর শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীয্যের মধ্যদিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ৪৭তম কঠিন চীবর দানোৎসব রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে চীবর উৎসর্গের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার প্রাঙ্গনে বৌদ্ধ ধর্মীয় সমাবেশে প্রয়াত পার্বত্য ধর্মীয় গুরু বনভন্তে স্মৃতির উদ্দেশ্যে পার্বত্য ধর্মীয় গুরু বনভন্তের শীর্ষ মন্ডলীর কাছে এ চীবর উৎসর্গ করা হয়। চীর উৎসর্গের সময় ভক্তদের সাধু..সাধু..সাধু কন্ঠধ্বনিতে রাজবন বিহারের সমগ্র আশপাশে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
বিহার প্রাঙ্গনে আয়োজিত স্বধর্ম দেশনা দেন রাঙ্গামাটি রাজ বন বিহারের ভিক্ষু সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এ সময় তিনি কৌশল কর্ম, সৎ চেতনা ও সৎ জীবন নিয়ে জীবনযাপন করার জন্য হিতোপোদেশ দেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির মভাপতি গৌতম দেওয়ান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, মানবধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান, বিনএনপির নেতা দীপেন দেওয়ান প্রমুখ।
এর আগে বুদ্ধ সংগীত দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে পঞ্চশীল, অষ্টশীল, বৌদ্ধ মূর্তি ও কঠিন চীবর উৎস্বর্গের পর মহাপূর্নবর্তী বিশাখা প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরীকৃত কঠিন চীবর উপস্থিত ভিক্ষু-সংঘের কাছে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার বৌদ্ধ পূর্নার্থীর সমাগম ঘটে।
প্রতিবছর দুইদিন ব্যাপী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সূতা কেটে, সূতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হলেও এবারে করোনার কারণে কঠিন চীবর দানোৎসব সংক্ষিপ্ত করে দিনব্যাপী বৌদ্ধ সমাবেশে মাধ্যমে এবার চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় গেরুয়া কাপড়কে বলা হয় চীবর। প্রাচীন নিয়ম মতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সূতা কেটে, সূতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে এর নাম কঠিন চীবর দান। বিশ্বের আর কোথাও এ নিয়মের প্রচলন নেই।
বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে, দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর পূর্বে গৌতম বুদ্ধের শিষ্য বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরীর প্রচলন করেছিলেন। প্রতি বছর আষাড়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিনমাস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর দান করতে হয়। এরইই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সাল থেকে বুদ্ধের শিষ্য বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে ৪৭ বছর ধরে কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। রাতে রাজবন বিহারে ফানুষ উড়িয়ে শেষ হবে এই কটিন চীবর দান উৎসব।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

ajkervabna.com |

advertisement
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
advertisement
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
advertisement

এডিটর ইন চিফ : অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ

নির্বাহী সম্পাদক : অ্যাডভোকেট শেখ সাইফুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক : ড. মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
বাড়ি# ১৬৭, রোড# ০৩, লেভেল ৫, মহাখালি ডিওএইচএস, ঢাকা।
ajkervabna.com@gmail.com or info@ssa-bd.com, +880 16 8881 6691

©- 2021 ajkervabna.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।